আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শতভাগ শুল্ক আরোপের মারাত্মক হুমকির পরও রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনা অব্যাহত রাখার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ভারত। ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দেশের ১৪০ কোটি জনগণের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এক বিবৃতিতে নিজেদের বাণিজ্যিক অবস্থান পরিষ্কার করেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাশ্রয়ী মূল্যে দেশের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করা নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের কৌশলগত নীতি এবং ভবিষ্যতেও তারা এই অবস্থান বজায় রাখবে। নিজ দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও বাণিজ্য সুরক্ষায় যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ভারত প্রস্তুত। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ওয়াশিংটন যদি এই শুল্ক নীতি বাস্তবে প্রয়োগ করে, তবে তা কেবল ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপরই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে না, বরং পুরো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করবে।
সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদে ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ নামে একটি বিতর্কিত বিল পাস হয়। প্রস্তাবিত এই আইন কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত রপ্তানি শুল্ক চাপানোর আইনি সুযোগ পাবে। বিলে ভারত ছাড়াও চীন, তুরস্ক, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান এবং কিরগিজস্তানসহ মোট ১০টি দেশকে এই শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই কড়া বিলটির মূল প্রণেতা মার্কিন সিনেটের প্রভাবশালী সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি সিনেটে ইউক্রেন ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অন্যতম সমর্থক হিসেবে পরিচিত। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—মার্কিন আইনসভার উভয় কক্ষে অনুমোদন পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দপ্তরে যাবে। ট্রাম্প সেখানে স্বাক্ষর করলেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত হবে।